পঞ্চগড়ের চতুর্দেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধায় জ্বালানি তেল পাচার রোধে বাংলাদেশ সীমান্তগার্ড বাহিনী (বিজিবি) তাদের নজরদারি এবং তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে এ ধরনের সতর্কতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়ন শনিবার থেকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম শুরু করে। স্থলবন্দরে প্রবেশ করা ও বের হওয়া সকল যানবাহনের তেল পরিমাপ করা হচ্ছে। এছাড়া ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করা হয়েছে, যা সন্দেহজনক পণ্য ও তেলের সম্ভাব্য অবৈধ চালানের দিকে নজর রাখছে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ভারত, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গে পণ্য আমদানি-রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। বিজিবি সূত্র জানায়, পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত গাড়ির মাধ্যমে কেউ যাতে বাংলাদেশ থেকে তেল বহন করতে না পারে, সে বিষয়টি বিশেষভাবে নজরদারি করা হচ্ছে। পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস বলেন, “বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় আমরা বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে চেকপোস্ট স্থাপন করেছি। গাড়িগুলোর তেল পরিমাপসহ সমস্ত তল্লাশি কার্যক্রম চলছে, যাতে কেউ অবৈধভাবে তেল বহন করতে না পারে।”
একই সঙ্গে ২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা জুড়ে টহল জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তে উপস্থিত বিজিবি সদস্যরা নিয়মিতভাবে গাড়ি ও পণ্য পরিবহনের মনিটরিং করছেন। এ ধরনের কড়াকড়ি এবং নজরদারি কার্যক্রমে সীমান্তবর্তী এলাকায় তেল পাচারের চেষ্টা দমন করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজিবি আরও জানায়, স্থলবন্দরে প্রবেশ করা সব ধরনের যানবাহনের তেল পরিমাপ করা হচ্ছে, যাতে সীমান্তবর্তী এলাকায় কোনো ধরনের অবৈধ তেল পরিবহন প্রতিরোধ করা যায়। এছাড়া সন্দেহজনক কার্যকলাপ বা অস্বাভাবিক পণ্য পরিবহন নজরে আসলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্বে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে তেল পাচারের কয়েকটি ঘটনা ধরা পড়েছিল। তবে বর্তমানে বিজিবির নিয়মিত তল্লাশি এবং কড়া নজরদারির কারণে অবৈধ কার্যকলাপ যথেষ্ট কমে এসেছে। বিজিবি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মাধ্যমে ভবিষ্যতে তেল পাচার সম্পূর্ণভাবে রোধ করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধুমাত্র তেল পাচার নিয়ন্ত্রণেই সীমাবদ্ধ থাকছে না, বরং সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার একটি শক্তিশালী বার্তাও দিচ্ছে। বিজিবি বলছে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, যেখানে প্রতিদিন ভারত ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে পণ্য পরিবহন হয়, সেখানে এই সতর্কতা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে নিরাপদ রাখার পাশাপাশি, অবৈধ কার্যক্রম দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে আরও প্রযুক্তি ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করে তেল পাচার রোধে কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজিবি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্ব সহকারে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক