ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সম্মেলন, যার নাম ‘এআই ইমপ্যাক্ট সামিট’। পাঁচ দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, সম্মেলন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে ভারতের দ্রুত অগ্রগতির প্রতিফলন এবং তরুণদের সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি সুযোগ। সম্মেলনের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক এআই শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে যৌথ রোডম্যাপ তৈরি করা।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে প্রায় আড়াই লাখ দর্শনার্থী, ২০ রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান এবং ৪৫ মন্ত্রীপর্যায়ের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরাও উপস্থিত রয়েছেন, যার মধ্যে স্যাম অল্টম্যান ও সুন্দর পিচাই রয়েছেন। তবে এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং সফর বাতিল করেছেন।
সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাসহ বিভিন্ন নেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকগুলোর মূল বিষয় হবে এআই খাতে বৈশ্বিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং আগামী দশকে ভারতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে রয়েছে সংশয়, এআই কোম্পানিগুলোকে বাস্তবভাবে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব হবে কি না। অনেকের মতে, পূর্ববর্তী সম্মেলনগুলোর প্রতিশ্রুতির বড় অংশই ছিল স্বেচ্ছানিয়ন্ত্রণভিত্তিক।
স্মারক বিষয় হিসেবে এআই নিরাপত্তা বড় আলোচ্য বিষয়। বিশেষ করে ডিপফেক, ভুয়া তথ্য, এবং ক্ষতিকর কনটেন্টের ঝুঁকি নিয়ে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেনারেটিভ এআই সহজে ক্ষতিকর কনটেন্ট তৈরি করতে পারে, যা শিশুদের নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশে আয়োজিত এটিই প্রথম বড় বৈশ্বিক এআই সম্মেলন। আয়োজকরা আশা করছেন, সম্মেলনের মাধ্যমে এমন একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হবে যা সবার উপকারে আসবে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় ভারতের সামনে এখনও দীর্ঘ পথ রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক