ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ফোন করে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে শেহবাজ তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেহবাজ শরিফ তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। জবাবে তারেক রহমানও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে ঢাকায় আমন্ত্রণ জানান। উভয় নেতা দুই দেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করতে এবং ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে একমত হন।
ফোনালাপে উষ্ণ ও আন্তরিকভাবে দুই নেতা বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করেন। তারা তাঁর পাকিস্তান সফরের সময় এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে করা অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। এছাড়া উভয় নেতা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কের কথাও মনে করিয়ে দেন।
শেহবাজ শরিফের বক্তব্যে উঠে আসে দুই দেশের সার্বভৌম সমতার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজন। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও অগ্রগতিতে দুই দেশের নেতৃত্বের একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করা হয়।
এ ঘটনাটি কেবল বর্তমান রাজনৈতিক সম্পর্কের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসেও তা বিশেষ স্থান রাখে। প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ে বেগম খালেদা জিয়া চারবার পাকিস্তানে রাষ্ট্রীয় সফর করেন। এছাড়া বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান সফর করেন, যা স্বাধীনতার পর প্রথম কোনো বাংলাদেশী রাষ্ট্রপ্রধানের অফিশিয়াল সফর হিসেবে ধরা হয়।
সেই সফরে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং কূটনীতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন হয়। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি ভারত-ঘনিষ্ঠ নীতি থেকে সরে এসে মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবে কাজ করে।
শেহবাজ শরিফ ও তারেক রহমানের সাম্প্রতিক ফোনালাপের মাধ্যমে উভয় দেশের নেতৃত্ব দুই দেশের জনগণের কল্যাণ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
ফলে, রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে এই ফোনালাপ বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি দেখায় যে, নির্বাচনের পরেও রাজনৈতিক নেতা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা মৌলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় রাখতে সচেষ্ট।