বাংলাদেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সূচকের উল্লেখযোগ্য উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শুরু করেছে। এই সময় দুই বাজারেই শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিটে ব্যাপক লেনদেন হয়েছে।
ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টা পর অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৭৮ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২১৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সময় ডিএসইর শরীয়াহ সূচক ১৩ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১,০৪৮ ও ২,০০৩ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। এই সময়ে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ৩১৬টির, কমেছে ১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টি কোম্পানির শেয়ার। লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি হলো—সিটি ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, প্রগতি লাইফ, খান ব্রাদার্স, রবি, ব্যাংক এশিয়া, ওরিয়ন ইনফিউশন, আইএফআইসি ব্যাংক ও শাইনপুকুর সিরামিক।
ডিএসইএক্স সূচকের গতিবিধি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, লেনদেন শুরুর প্রথম ৫ মিনিটে সূচক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সকাল ১০টা ১০ মিনিটে আরও ৩০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়। লেনদেন শুরুর ২০ মিনিট পর অর্থাৎ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচক ১১২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৩ পয়েন্টে পৌঁছায়। সূচকের ঊর্ধ্বমুখী গতি এদিন সারাবেলা বজায় থাকে।
অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সিএএসপিআই সূচক সকাল সাড়ে ১০টায় ৬২ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫৫০ পয়েন্টে অবস্থান করে। এই সময়ে সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। লেনদেনের সময় ২১টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে ৩টির এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, পুঁজিবাজারে এ ধরনের উত্থান সাধারণত বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট ফলাফল এবং বিনিয়োগকারীদের মনোবল বৃদ্ধি পেলে ঘটে। এদিনের উত্থানে বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ডিএসই ও সিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী গতি অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্যাংকিং, টেলিযোগাযোগ, ও শিল্পখাতের কোম্পানিগুলোতে দাম বেড়ে এই সূচককে চাপ দিয়েছে। এছাড়া, লেনদেনের পরিমাণও প্রমাণ করছে যে, বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
বাজারে লেনদেনের এ ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বাজারে নতুন সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন।
সার্বিকভাবে, মঙ্গলবারের এই সূচক উত্থান ও লেনদেনের কার্যক্রম পুঁজিবাজারে সক্রিয়তা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ডিএসই ও সিএসইতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী গতি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক এবং দেশের অর্থনৈতিক পরিবেশের জন্য সহায়ক হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক