বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী-র পরিপূর্ণ সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র রূহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বাদ জোহর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর কেন্দ্রীয় মসজিদে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সাবেক ও বর্তমান ছাত্রদল নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, চিকিৎসক ও শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।
দোয়া মাহফিলের সভাপতিত্ব করেন বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কমিটির সদস্য এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, রুহুল কবির রিজভী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার আন্দোলনে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি টানা ৭৮৭ দিন অবস্থান করেন এবং দলীয় নেত্রীর মুক্তির পরেই তিনি নিজ বাসায় ফেরেন। এতে করে তিনি সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও আনুগত্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডা. আউয়াল আরও বলেন, গণতন্ত্র ও ‘গণতন্ত্রের মা’কে ভালোবাসতে গিয়ে রিজভী নিজের শারীরিক সুস্থতার কথাও ভুলে গেছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৮৪ সালের ২২ ডিসেম্বর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে রিজভী গুলিবিদ্ধ হলেও কখনো আপস করেননি। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন-সংগ্রামে তার এই দৃঢ় অবস্থান দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করতে বিরামহীন পরিশ্রম করতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী গত ১০ ফেব্রুয়ারি ভাইরাল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন। তার দ্রুত আরোগ্য কামনায়ই আজকের এই দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, রুহুল কবির রিজভী আজীবন দলের জন্য নিবেদিত একজন নেতা। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তিনি সবসময় দলের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তার সুস্থতা শুধু বিএনপির জন্য নয়, দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে তারা মন্তব্য করেন।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, কার্ডিওলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শফিউদ্দিন আহমেদ, ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম সেলিম, কার্ডিওলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লোহানী মো. তাজুল ইসলামসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক ও ছাত্রদল নেতারা। তারা সবাই রিজভীর সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দেশবাসীর কাছে কায়মনোবাক্যে দোয়া প্রার্থনা করা হয়—যাতে রুহুল কবির রিজভী দ্রুত সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে আবারও সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে পারেন। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।
দোয়া মাহফিলটি শান্তিপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে শেষ হয়। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের ধর্মীয় ও মানবিক আয়োজন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও ঐক্য আরও দৃঢ় করে।