নরসিংদী রেলস্টেশনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় এক মা ও তার দুই বছরের শিশুসন্তান নিহত হয়েছেন। ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। ঘটনাটি ঘিরে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
নিহতরা হলেন সাথী বেগম এবং তার দুই বছরের ছেলে হাছেন। দিনমজুর সুজন মিয়া ঈদের কেনাকাটার জন্য স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নরসিংদী শহরে এসেছিলেন। কেনাকাটা শেষে তারা রাত সাড়ে ৮টার দিকে নরসিংদী রেলস্টেশনে পৌঁছান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাড়ি ফেরার সময় তারা স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তঃনগর মহানগর এক্সপ্রেসের পাশে দিয়ে পার হওয়ার চেষ্টা করেন। একই সময় দ্রুতগতিতে ঢাকার দিকে আসা কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি তাদের ধাক্কা দেয়। এতে সাথী বেগম ও তার কোলে থাকা শিশু হাছেন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পরপরই সুজন মিয়া আহত স্ত্রীকে কাঁধে তুলে নেন এবং সন্তানের নিথর দেহ বুকে জড়িয়ে দ্রুত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মা ও শিশু মারা গেছেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, এক বিধ্বস্ত বাবা এক হাতে ছোট মেয়ের হাত ধরে, অন্য হাতে স্ত্রী ও সন্তানের নিথর দেহ নিয়ে হাসপাতালে ছুটছেন। এই দৃশ্য অনেকের হৃদয় নাড়িয়ে দিয়েছে।
সুজন মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তিনি ট্রেন আসতে দেখে চিৎকার করেছিলেন এবং পরিবারকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু কিছুই করতে পারেননি।
নরসিংদী রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জানিয়েছেন, স্টেশনে পারাপারের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও রেলস্টেশনে নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ঈদের আনন্দের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা পুরো পরিবারকে এক মুহূর্তে শোকে নিমজ্জিত করেছে।
কসমিক ডেস্ক