প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দেশের তিন বাহিনীর প্রধানরা। গতকাল সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্বিতীয় দিন অফিসে এসে প্রধানমন্ত্রী এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। বৈঠকে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি ও চলমান কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম-ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সামরিক ও নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করছেন। বৈঠকে বাহিনীগুলোর সঙ্গে সরকারের নীতিগত সমন্বয়, দায়িত্ব পালনে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায় বলে জানা গেছে।
এর আগে সকালে সচিবালয়ে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি ও মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার। তারা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের অধীনে রাষ্ট্র পরিচালনার সূচনালগ্নে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, দেশের সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর বাহিনীগুলোর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করার মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয়ের একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৈঠকে বাহিনী প্রধানরা তাদের নিজ নিজ বাহিনীর বর্তমান অবস্থা, সক্ষমতা এবং চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়েও তারা দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বাহিনীগুলোর পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের এই সাক্ষাৎ নতুন সরকারের সঙ্গে সশস্ত্র বাহিনীর সম্পর্ক ও সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা। রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও বোঝাপড়া থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে তারা মনে করেন। বিশেষ করে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিবর্তিত হওয়ায় এ ধরনের বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সমন্বয় জোরদার করার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও এই সাক্ষাৎকে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের এই সাক্ষাৎ নতুন সরকারের কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং বাহিনীগুলোর পেশাদার ভূমিকা নিয়ে সরকার কী ধরনের দিকনির্দেশনা দেয়—সে বিষয়েও এই বৈঠক একটি ভিত্তি তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।