পাবনার Bhangura উপজেলায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে নকল দুধ প্রস্তুতের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে রমজান মাসে দুধের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ ভেজাল দুধ তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, বহুদিন ধরেই উপজেলায় নকল দুধ তৈরির কর্মকাণ্ড চললেও তা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বাস্তব চিত্রে তেমন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও উৎপাদন ও বাজারজাত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সবশেষ বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার ভবানীপুর গ্রামে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালায়। এ সময় বিপুল পরিমাণ নকল দুধ তৈরির সরঞ্জাম জব্দ ও ধ্বংস করা হয়। এর আগে গত বছরের ২৮ নভেম্বর কৈডাঙ্গা গ্রামে আবুল বাশারের বাড়িতে প্রায় ১০ লাখ টাকার নকল দুধ প্রস্তুতের সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছিল। তখন তার স্ত্রীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ৩ ডিসেম্বর অষ্টমনীষা এলাকায় মিজান আলীকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সর্বশেষ অভিযানে ভবানীপুর গ্রামের নুর ইসলামের বাড়িতে ছয় ড্রাম জেলি ও পাঁচ ব্যারেল সয়াবিন তেল পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নুর ইসলামের স্ত্রী খুশি খাতুন (৪০)-কে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, পাবনার সবচেয়ে বেশি দুধ উৎপাদনকারী উপজেলা ভাঙ্গুড়া। এখানে প্রায় ৭৫০টি খামার রয়েছে। উপজেলায় পাঁচটি দুধ সংগ্রহ ও বিপণন কেন্দ্রের অধীনে ৩০টির বেশি শীতলীকরণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে Pran-এর ২১টি, BRAC-এর তিনটি, Akij Group-এর দুটি, Milk Vita-এর একটি এবং বারো আউলিয়ার একটি কেন্দ্র রয়েছে। উপজেলায় উৎপাদিত দুধের প্রায় ৬৫ শতাংশ এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।
এ ছাড়া অর্ধশতাধিক ব্যক্তিগত দুধ শীতলীকরণ কেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো সরকারি ভ্যাট ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দপ্তরে এসব কেন্দ্রের পূর্ণাঙ্গ তথ্যও নেই। এসব কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫ শতাংশ দুধ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এজেন্টের মাধ্যমে বিক্রি হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ গ্লুকোজ জেলি, সয়াবিন তেল, কস্টিক সোডা, চিনি, লবণসহ নানা রাসায়নিক উপাদান মিশিয়ে কৃত্রিমভাবে দুধ তৈরি করছেন। বছরের অন্যান্য সময়েও এ ধরনের উৎপাদন থাকলেও রমজানে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযানে সরঞ্জাম জব্দ হলেও মূল হোতারা প্রায়ই পালিয়ে যায়। অনেক সময় সংশ্লিষ্টদের জরিমানা বা স্বল্প শাস্তি দেওয়া হয়, যা অপরাধ দমনে কার্যকর হচ্ছে না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রোমানা আক্তার রোমিও বলেন, ভেজাল দুধ প্রস্তুতের খবর প্রায়ই পাওয়া যায় এবং অভিযানও পরিচালিত হয়। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মূল অপরাধীরা পালিয়ে যায়। ব্যক্তিগত শীতলীকরণ কেন্দ্র সম্পর্কে তিনি জানান, উর্ধ্বতন দপ্তর থেকে পরিদর্শনের নির্দেশনা না থাকায় সেগুলো নিয়মিত তদারকি করা হয় না। বিষয়টি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত তদারকি, কঠোর শাস্তি ও অবৈধ শীতলীকরণ কেন্দ্র বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্য বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।
কসমিক ডেস্ক