গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করল প্রেস উইং The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করল প্রেস উইং

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 18, 2026 ইং
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করল প্রেস উইং ছবির ক্যাপশন:
ad728

জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন নিয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য অবস্থান গণতান্ত্রিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় বলে দাবি করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অবস্থান কোনোভাবেই নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয়। বরং এটি সরকারের সংস্কারমূলক দায়িত্ব ও প্রাপ্ত ম্যান্ডেটের স্বাভাবিক প্রতিফলন।

বিবৃতিতে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার কেবল দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা কিংবা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সরকারের প্রধান লক্ষ্য রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো তৈরি করা।

প্রেস উইং জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত প্রায় ১৮ মাস ধরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণ প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই প্রতিফলন। ফলে এই সংস্কারের পক্ষে তার অবস্থান নেওয়াকে সরকারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলা যায় না।

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চার উদাহরণ টেনে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে সরকারপ্রধানদের প্রকাশ্যে মত দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। গণভোটে নেতারা তাদের অবস্থান জনগণের সামনে তুলে ধরেন, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ভোটারদের হাতেই থাকে—এটাই গণতন্ত্রের স্বীকৃত রীতি।

প্রেস উইং আরও জানায়, গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল বিবেচ্য বিষয় হলো ভোটারদের স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ, বিরোধী পক্ষের সমান প্রচারাধিকার এবং পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত বজায় রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

সংস্কার গণভোটকে দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এই সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার পরিচায়ক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব নির্দেশ করে। সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ।

বাংলাদেশের বাস্তবতায় প্রেস উইং জানায়, এই গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারের ওপর।

জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের উদ্দেশ্য সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।

বিবৃতির শেষে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে দ্বিধা বা নীরবতাই বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে জনগণের হাতেই—এটাই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ব্যয় বাড়ল সাড়ে ২৫ হাজার কোটি