রংপুরে তিন দিনে ঠান্ডাজনিত রোগে মৃত্যু ১০৩, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪২১ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রংপুরে তিন দিনে ঠান্ডাজনিত রোগে মৃত্যু ১০৩, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪২১

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 4, 2026 ইং
রংপুরে তিন দিনে ঠান্ডাজনিত রোগে মৃত্যু ১০৩, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪২১ ছবির ক্যাপশন:
ad728

তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রংপুর বিভাগ। গত তিন দিনে ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ৪২১ জন রোগী।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১ থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে হাসপাতালের মেডিসিন ও শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এ সময় শুধু এই দুটি ওয়ার্ডেই ৩৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার সকালে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় তাপমাত্রা নেমে আসে ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সর্বনিম্ন ১০ দশমিক ৫ ডিগ্রি, পঞ্চগড়ে ১০ দশমিক ৬, ঠাকুরগাঁওয়ে ১০ দশমিক ৭, রংপুরে ১১ দশমিক ২, কুড়িগ্রামে ১১ দশমিক ৫, গাইবান্ধায় ১১ দশমিক ৮ এবং লালমনিরহাটে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আগামী পাঁচ দিন ঘন কুয়াশা থাকার আশঙ্কাও জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজার রহমান বলেন, হিমালয়ের কাছাকাছি হওয়ায় রংপুর বিভাগে দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হয়। গত কয়েক দিন ধরে বরফশীতল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কম থাকায় শীতের অনুভূতি আরও বেশি হচ্ছে।

তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে তিস্তা, ধরলা ও যমুনা নদীপাড়ের নিম্নআয়ের মানুষ। দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শীতের প্রভাব পড়েছে গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও চিড়িয়াখানার প্রাণীদের ওপরও। এসব প্রাণী রক্ষায় শেড ঢেকে দেওয়া এবং ভিটামিন সরবরাহসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রংপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, শীতজনিত দুর্ভোগ কমাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৫০০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আটটি উপজেলায় শীতবস্ত্র বিতরণের জন্য ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ বলছে, শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
“আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে”

“আমি তো প্রেমে পড়িনি, প্রেম আমার উপরে পড়েছে”