চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদাহ বাজার এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। নিহত হাফিজুর রহমান (৫৫) স্থানীয় ‘ঢাকা জুয়েলার্স’-এর মালিক এবং পরিচিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি জামায়াতের এক ইউনিয়ন আমিরের বড় ভাই বলে জানা গেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কামিল মাদরাসা গেটের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বের বিরোধের জেরে বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। প্রায় ৪০–৪৫ মিনিট পরিস্থিতি থমথমে থাকার পর উভয় পক্ষের আরও নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে জড়ো হলে নতুন করে সংঘর্ষ বাধে।
এ সময় জামায়াতের বাঁকা ইউনিয়নের আমির মফিজুর রহমানের ওপর হামলা হলে তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান তার বড় ভাই হাফিজুর রহমান। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
পরিস্থিতির অবনতি হলে হাফিজুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে অবস্থার আরও অবনতি হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়া হয়। হাফিজুর রহমানকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, কাকরাইলে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত মফিজুর রহমানকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া জামায়াতের আরও তিন কর্মী আহত হয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির পক্ষের আহতদের মধ্যে রয়েছেন বাঁকা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মাস্টার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদ্য অব্যাহতি পাওয়া নেতা মেহেদী হাসান এবং তার বাবা জসীম উদ্দিন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পরবর্তীতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
এ ঘটনায় জেলা পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জীবননগর থানা-র ওসি সোলাইমান শেখ জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সংঘর্ষের জেরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাজার এলাকায় কিছু সময়ের জন্য দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ ধরনের সহিংস ঘটনা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং দায়ীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক