ঢাকা ওয়াসার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী ও তার স্ত্রী মাহবুবুন্নেছার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতের এ পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগে সিআইডি অনুসন্ধান শুরু করা। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে ১৯৯১ সালে ঢাকা ওয়াসায় যোগদান করেছিলেন এবং পরে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাকে সংস্থার এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রকৌশলী হিসেবে থাকা অবস্থায় আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছিল। সাম্প্রতিককালে, ৩ মার্চ একটি জাতীয় দৈনিকে কানাডার ‘বেগমপাড়া’-তে আব্দুস সালামের স্ত্রীর নামে বিলাসবহুল বাড়ি থাকার বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের পর আদালত এবং সিআইডি তার সম্পদের উৎস ও জীবনযাত্রার সঙ্গে আয়ের অসংগতি খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।
ঢাকা ওয়াসার এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে ওই অনুষ্ঠানে আব্দুস সালামকে অংশ নিতে নিষেধ করা হয়। এই ঘটনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আদালতের নজরদারির প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বর্তমানে সিআইডি আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে, বিশেষ করে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে। এই অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যাতে তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করা যায়।
আব্দুস সালামের চাকরিজীবন দীর্ঘকালীন। ১৯৯১ সালে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের পর থেকে তার মোট বেতন-ভাতা প্রায় আড়াই কোটি টাকা হিসেবে হিসাব করা হয়। তবে তার বর্তমান সম্পদ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে আয়ের এই পরিমাণের মিল নেই। এই অসংগতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা তার সম্পদের উৎস যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে।
নির্বাচিত পদে দায়িত্ব নেওয়ার সময়ে এবং পরে দুর্নীতি ও সম্পদ বিস্তারের অভিযোগ উঠায় আদালত এবং সিআইডি বিশেষ নজর দিয়েছে। বিদেশে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে যে, তিনি এবং তার স্ত্রী কোনোভাবেই বিদেশে গিয়ে সম্পদের উৎস সংক্রান্ত তদন্তে প্রভাব ফেলতে পারবেন না।
আদালত ও সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন অনুযায়ী আরও জিজ্ঞাসাবাদ, নথি যাচাই এবং আর্থিক হিসাব তল্লাশি চালানো হবে। এই অনুসন্ধানের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এই আদেশের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক সংস্থা এবং তার সাবেক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণিত হলো। আদালত ও সিআইডির তৎপরতা দেশের জনগণের মধ্যে বিশ্বাস সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্নীতি দমনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কসমিক ডেস্ক