গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) সংসদীয় আসনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক আলম সরকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির পক্ষ থেকে এ নোটিশ জারি করা হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সাঘাটা উপজেলার ৬ নম্বর ঘুড়িদহ ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হয়। ওই প্রচারণার একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ) করা হয়।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির তদন্ত অনুযায়ী, এ ধরনের প্রচারণা ও লাইভ সম্প্রচার ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮’-এর ১৮ নম্বর বিধির পরিপন্থি। ফলে এটি সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে কমিটির মতামতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাইবান্ধা-০৫ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং বগুড়া সিভিল জজ মো. তানজীর হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, কেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ফারুক আলম সরকারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।
নোটিশে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত প্রার্থীকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অস্থায়ী কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত জবাব দাখিল করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি নিয়মিতভাবে মাঠ পর্যায়ে নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভ প্রচারণা, রাতের বেলা নির্বাচনী কার্যক্রমসহ বিভিন্ন বিষয় আচরণবিধির আওতায় পড়ে কিনা—তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় গাইবান্ধা-৫ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।