পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন রাওয়ালপিন্ডি বোর্ড অব ইন্টারমিডিয়েট অ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশনের (বিআইএসই) পরীক্ষায় শীর্ষস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, দেশটির বর্তমান পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাদান পদ্ধতি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না।
বার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শীর্ষস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা জাতীয় পাঠ্যক্রমে ব্যাপক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থা এখনো অনেকাংশে মুখস্থনির্ভর। ফলে শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না।
শিক্ষার্থীদের মতে, পুরনো শিক্ষাদান পদ্ধতির কারণে সৃজনশীলতা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা নীতি ও পাঠ্যক্রম ঢেলে সাজানোর দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে সংবিধান, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষানীতি প্রণয়নের আহ্বানও জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য কার্যকর শিক্ষা সংস্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের তরুণরা পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
এদিকে দেশটির শিক্ষা সংকটের চিত্রও বেশ উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরেরও বেশি সময় আগে পাকিস্তান সরকার জাতীয় শিক্ষা জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও এখনো ২৫ মিলিয়নের বেশি স্কুলগামী শিশু শিক্ষার বাইরে রয়েছে। বর্তমানে স্কুলের বাইরে থাকা শিশুর সংখ্যা প্রায় ২৫ দশমিক ১ থেকে ২৬ মিলিয়ন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নীতি পর্যালোচনায় শিক্ষা খাতে দুর্বল বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত অর্থের অভাব, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে সংকটের বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতীয় শিক্ষা কর্মপরিকল্পনা ২০২৬-এর আওতায় বিভিন্ন প্রদেশে শিক্ষা উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন পাকিস্তানের শিক্ষার্থীরা।
কসমিক ডেস্ক