দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ ও সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব। সংগঠন দুটি মনে করে, এই ঘটনা কেবল দুটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়; বরং এটি সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য একটি গুরুতর সতর্কবার্তা।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সংঘটিত হামলায় দুটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবের মতে, এই ঘটনা দেশের বিদ্যমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতার পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে ঘাটতিরও প্রতিফলন।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গণমাধ্যমে হামলার এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত সহিংসতা বা তথাকথিত ‘মব ভায়োলেন্স’ প্রতিরোধে ব্যর্থতার যে ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এটি তারই আরেকটি উদ্বেগজনক উদাহরণ। গণমাধ্যম কার্যালয়ে এমন আক্রমণ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছে সংগঠন দুটি।
এছাড়া একই রাতে ছায়ানটকে লক্ষ্য করে সংঘটিত হামলার ঘটনাতেও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব মনে করে, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব।
বিবৃতিতে জানানো হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান এবং দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপত্তা বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। তবে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবের মতে, শুধু আশ্বাস যথেষ্ট নয়; বরং অবিলম্বে হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পেশাজীবী সংগঠন, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দল এবং সাংবাদিক সংগঠনগুলোর প্রতি এই দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াব।
কসমিক ডেস্ক