উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টির প্রভাবে কুড়িগ্রামের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার ও ব্রহ্মপুত্রসহ জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীগুলোর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তা বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি থাকায় জেলার নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নদীভাঙনের ঝুঁকিও বেড়েছে।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রাজারহাটের কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি ৩৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করছে। একই সময়ে দুধকুমার নদীর পানি ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া ধরলা নদীর শিমুলবাড়ী ও সেতু পয়েন্ট এবং ব্রহ্মপুত্র নদের হাতিয়া, চিলমারী ও নুনখাওয়া পয়েন্টেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও সব নদীর পানি এখনো বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নদীর পানি বাড়তে শুরু করায় তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। ফলে সম্প্রতি দুই দফা বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকরা।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে দুই দফা বন্যায় জেলার নয়টি উপজেলায় প্রায় ৫০০ হেক্টর জমির শাকসবজি, আমনের বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন করে পানি বাড়ায় কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
সদর উপজেলার পাঁচগাছি ইউনিয়নের কদমতলা এলাকার কৃষক সালাম মিয়া বলেন, আগের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন করে সবজি আবাদ করেছিলেন। কিন্তু গত দুই দিনে ধরলা নদীর পানি যেভাবে বেড়েছে, তাতে সেই ফসলও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও তিস্তার পানি তুলনামূলক বেশি বেড়েছে এবং তা বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাত না হলে নদীর পানি কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক