ওমানে এসির কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল ফটিকছড়ির প্রবাসীর The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ওমানে এসির কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল ফটিকছড়ির প্রবাসীর

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 8, 2026 ইং
ওমানে এসির কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল ফটিকছড়ির প্রবাসীর ছবির ক্যাপশন:

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমানে কর্মস্থলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির এক বাংলাদেশি প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ওমানের সোহার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম এনাম (৪০)। তিনি চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হাদি বাপের বাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত জাগির হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে ওমানে কর্মরত ছিলেন এনাম। ঘটনার দিন তিনি সোহার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ (এসি) সংক্রান্ত কাজ করছিলেন। কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এনামের আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রেখে গেছেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এনাম ছিলেন অত্যন্ত শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী মানুষ। জীবিকার প্রয়োজনে বিদেশে থাকলেও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। সর্বশেষ চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি দেশে এসেছিলেন এবং কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার কর্মস্থলে ফিরে যান।

নিহতের প্রতিবেশী ও স্থানীয় যুবদল নেতা বেলাল বিন নুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার পর এনামের মরদেহ ওমানের একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

স্বজনরা দ্রুত মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা কামনা করেছেন, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যায়।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও আবার আলোচনায় এসেছে এই দুর্ঘটনার পর। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকদের জন্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার এবং কর্মপরিবেশের মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের মধ্যে কর্মস্থলে দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, সড়ক দুর্ঘটনা, উচ্চতা থেকে পড়ে যাওয়া কিংবা হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক প্রবাসী প্রাণ হারান। এসব ঘটনায় পরিবারগুলো শুধু প্রিয়জনকেই হারায় না, অনেক সময় তাদের প্রধান উপার্জনের উৎসও বন্ধ হয়ে যায়।

এনামের মৃত্যু ফটিকছড়ির মানুষের কাছেও গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, তিনি সবসময় হাসিখুশি ও সবার সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার করতেন। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

এদিকে পরিবারের সদস্যরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ওমানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়েছেন। তারা আশা করছেন, প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই এনামের মরদেহ নিজ জন্মভূমিতে পৌঁছাবে এবং পরিবারের সদস্যরা শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারবেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মনোবল ভেঙে পড়েছিল পুলিশের, স্বীকারোক্তি আইজিপির

মনোবল ভেঙে পড়েছিল পুলিশের, স্বীকারোক্তি আইজিপির