ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। তিনি জানিয়েছেন, সংসদের স্পিকার পদ একটি নিরপেক্ষ দায়িত্ব হওয়ায় নিজের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তিনি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলাকালে তিনি নিজেই এ ঘোষণা দেন।
এর আগে একই দিন বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার একটি নিরপেক্ষ আসন।
তিনি বলেন, “স্পিকার জাতীয় সংসদের একটি নিরপেক্ষ আসন। নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে আমি ইতোমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।”
এর মাধ্যমে তিনি সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের জন্য একটি মাত্র মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
সভাপতিত্বকারী প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানান, স্পিকার পদে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি জানান, প্রার্থী হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই দায়িত্ব পালনে সম্মতি দিয়েছেন।
এরপর সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম স্পিকার পদে তার নাম প্রস্তাব করেন।
এই প্রস্তাব সমর্থন করেন সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম।
প্রস্তাবটি সংসদে উপস্থাপন করা হলে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদিত হয় এবং মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন।
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর অনুপস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হয়।
এ অবস্থায় সংসদ সদস্যদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রবীণ সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
পরবর্তীতে স্পিকার নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
কসমিক ডেস্ক