ইরানের ওপর পরিকল্পিত হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এর অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান সংঘাত দ্রুত শেষ হতে যাচ্ছে। এমনটাই মন্তব্য করেছেন কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংঘাতের অবসানের ইঙ্গিত মিলতে পারে, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তার মতে, এই অবস্থান প্রদর্শনের বড় অংশই উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য ও কৌশলগত বার্তার মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।
পল মাসগ্রেভের দাবি, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও অনুভূত হচ্ছে। তিনি বলেন, পেট্রোলিয়াম ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)-এর মূল্যবৃদ্ধি এর অন্যতম উদাহরণ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার কারণে এই প্রভাব আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি মনে করেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক কয়েকটি সাইবার হামলার পেছনে ইরানের সমর্থন থাকতে পারে—এমন গুঞ্জনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করেননি এবং এটিকে সম্ভাব্য আশঙ্কা হিসেবেই তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসগ্রেভ আরও বলেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরান—উভয় পক্ষই তাদের রাজনৈতিক সময়সূচিকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। তার মতে, সামনের নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সংঘাত-সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপে সতর্ক অবস্থান নিতে পারে। ফলে সামরিক ও কূটনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি আগামী কয়েক মাস গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে।
তিনি মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা প্রশমনের সম্ভাবনা থাকলেও তাৎক্ষণিকভাবে সংঘাতের অবসান হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। বরং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত বিভিন্ন মাত্রায় এর প্রভাব আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে।
কসমিক ডেস্ক