ভেনেজুয়েলার তেল কেন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভেনেজুয়েলার তেল কেন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 5, 2026 ইং
ভেনেজুয়েলার তেল কেন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত লক্ষ্য ছবির ক্যাপশন:
ad728

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রক্ষমতা ও জ্বালানি তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, মার্কিন কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার তেল খাতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে।

মাদুরো প্রশাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক ও অস্ত্র পাচারের অভিযোগ তুলে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে আটকের পর আর কোনো রাখঢাক না রেখে তিনি স্পষ্ট করে দেন—ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ও গ্যাস সম্পদই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।

মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার খনিতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। দেশটির তেল মজুদের পরিমাণ প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল, যা বিশ্বে মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। অথচ এই বিপুল সম্পদের তুলনায় দেশটি দৈনিক গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উত্তোলন করতে পারছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দৈনিক যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয়, তার মাত্র ০.৮ শতাংশ আসে ভেনেজুয়েলা থেকে।

প্রশ্ন উঠছে—যুক্তরাষ্ট্রের নিজেরই যখন বিপুল জ্বালানি মজুদ রয়েছে, তখন ভেনেজুয়েলার তেলের প্রতি এত আগ্রহ কেন? বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মূল কারণ তেলের ধরন। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত অধিকাংশ তেল হালকা প্রকৃতির, যাকে ‘সুইট ক্রুড’ বলা হয়। এই তেল মূলত পেট্রল বা গ্যাসোলিন উৎপাদনের জন্য উপযোগী হলেও ভারী শিল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য ততটা কার্যকর নয়।

অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল অত্যন্ত ভারী ও ঘন। এই তেল উত্তোলন ও পরিশোধন তুলনামূলক জটিল হলেও এর মাধ্যমে উন্নতমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, শিল্পকারখানার জ্বালানি এবং ভারী যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারের উপযোগী জ্বালানি তৈরি করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প অর্থনীতি সচল রাখতে এই ধরনের ভারী তেলের বিকল্প খুবই সীমিত।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের পরিশোধনাগারগুলোতে কেবল নিজস্ব হালকা তেল ব্যবহার করতে চায়, তাহলে পুরো অবকাঠামো নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে, যার জন্য প্রয়োজন হবে হাজার হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ। নিকট ভবিষ্যতে এমন ব্যয়বহুল পরিবর্তনে যাওয়ার আগ্রহ মার্কিন জ্বালানি খাতের নেই।

ফলে কাগজে-কলমে যুক্তরাষ্ট্র তেল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও বাস্তবে ভারী অপরিশোধিত তেলের চাহিদা পূরণে দেশটিকে এখনো আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। টেক্সাস ও লুইজিয়ানার পরিশোধনাগারগুলো সচল রাখতে প্রতিদিন ছয় লাখ ব্যারেলের বেশি ভারী তেল আমদানি করা হয়। এই সমীকরণে কানাডা ও রাশিয়ার পাশাপাশি ভেনেজুয়েলাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

ভৌগোলিক দিক থেকেও ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সুবিধাজনক। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক কাছাকাছি হওয়ায় পরিবহন ব্যয় কম এবং সরবরাহ দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব। এসব কারণেই ভেনেজুয়েলার তেলভাণ্ডার যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি কৌশলে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে—ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বাস্তবতাকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জুমার পর দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের

জুমার পর দেশজুড়ে আন্দোলনের ঘোষণা ইনকিলাব মঞ্চের