বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে ধাপে ধাপে শিক্ষকদের উৎসব ভাতা শতভাগে উন্নীত করা হবে। বর্তমানে এই ভাতা ৫০ শতাংশ হারে প্রদান করা হচ্ছে এবং চলতি বছরে আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শিক্ষামন্ত্রী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের বিভিন্ন সুবিধা ধীরে ধীরে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বর্তমানে শিক্ষকদের শতভাগ বেতন সরকার বহন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা এবং বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য সুবিধাও আংশিকভাবে প্রদান করা হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বেসরকারি শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা ও প্রণোদনা বাড়াতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে উৎসব ভাতা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ভবিষ্যতে শতভাগে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে শিক্ষকদের জীবনমান উন্নত হবে এবং তারা আরও বেশি মনোযোগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায়ও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজগুলোতে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো, যা এখন বাতিল করা হয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (NTRCA)-এর মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্য থেকে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিবন্ধন সনদ অর্জন করা মানেই সরাসরি চাকরি পাওয়া নয়। বরং এটি একজন প্রার্থীর শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের যোগ্যতা নিশ্চিত করে। এরপর চাকরি পাওয়া বা না পাওয়া নির্ভর করে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের ওপর।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, যোগ্যতাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি বা অনিয়ম বন্ধ করাই বর্তমান নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য।
শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি ও নিয়োগ ব্যবস্থার সংস্কার—এই দুই উদ্যোগকে দেশের শিক্ষা খাত উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা হলে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং শিক্ষকরা আরও উৎসাহিত হবেন।
শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা ইতোমধ্যে শিক্ষা মহলে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এটিকে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির আংশিক পূরণ হিসেবে দেখছেন এবং ভবিষ্যতে শতভাগ ভাতা বাস্তবায়নের আশায় আছেন।
কসমিক ডেস্ক