জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান জাতীয় সংসদের প্রতি দেশের মানুষের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি। তার ভাষায়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের ‘৩৬ কোটি চোখ’ এখন সংসদের কার্যক্রমের দিকে নিবদ্ধ। জনগণ চান, সংসদ সদস্যরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা এবং যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বর্তমান সংসদকে একটি ব্যতিক্রমধর্মী সংসদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অধিকাংশ সংসদ সদস্য অতীতে গুম, নির্যাতন, কারাবরণ, নির্বাসন কিংবা বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। ফলে এই সংসদের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
তিনি বলেন, সংসদ পরিচালনায় সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই তার প্রধান দায়িত্ব। যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় সচেষ্ট থাকবেন বলেও জানান তিনি।
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান কায়সার কামাল। তার মতে, একটি কার্যকর সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা ও সমালোচনার সংস্কৃতি রাষ্ট্র পরিচালনাকে আরও শক্তিশালী করে।
জাতীয় সংসদকে রাষ্ট্র পরিচালনার কেন্দ্রবিন্দু উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মূল ভিত্তি হচ্ছে সংসদ। বিশ্বের উন্নত সংসদীয় গণতন্ত্রের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশেও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত সংসদীয় আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমেই গৃহীত হয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বিভিন্ন ঐতিহাসিক অধ্যায় নিয়েও বক্তব্য দেন। পাশাপাশি তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সংসদ গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তার মতে, জাতীয় সংসদ দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
কসমিক ডেস্ক