মিশরের ভূমধ্যসাগরীয় দামিয়েত্তা বন্দরে ড্রোন হামলায় দুটি গ্যাসবাহী জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। বুধবারের এই হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সুয়েজ খাল দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মিশরের মন্ত্রিসভা জানিয়েছে, অজ্ঞাত একটি ড্রোনের আঘাতে বন্দরে নোঙর করা দুটি গ্যাসবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তাতে আগুন ধরে যায়। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ঘটনার সঙ্গে পরিচিত সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন গ্যাস সংরক্ষণকারী ট্যাংকার ‘Energos Winter’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ড্রোনের আঘাতে জাহাজটিতে আগুন লাগার পর তা পাশের আরেকটি জাহাজেও ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তেহরানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, মিশর ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু ও অংশীদার। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরির উদ্দেশ্যে ইসরায়েল ষড়যন্ত্র বা ভুয়া হামলার পরিকল্পনা করতে পারে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো পক্ষের দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার মধ্যেই এই হামলা ঘটায় মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সুয়েজ খাল এবং এর সঙ্গে সংযুক্ত সুমেদ (SUMED) পাইপলাইন বর্তমানে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এদিকে, লোহিত সাগরে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে সামুদ্রিক বীমা ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক শিপিং কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সৌদি আরব ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।
কসমিক ডেস্ক