খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি নুরুল আলম রনিকে আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৪ জুলাই) ভোরে জেলা সদরের সবুজবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। ঘটনাটির পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং দ্রুত অভিযুক্তকে শনাক্ত করে আটক করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রায় ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরা এক যুবক স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে পেট্রোলজাতীয় দাহ্য পদার্থ ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন দেওয়ার পরপরই সে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
তবে স্মৃতিস্তম্ভটি লোহার তৈরি হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায় কিসলু বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কিছু সদস্য এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ ঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি নুরুল আলম রনিকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আটক রনি জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি মনির হোসেনের বড় ভাই। ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য এবং জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে মামলা দায়েরের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি স্থাপনার ক্ষতিই নয়, বরং এটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপর আঘাত। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, খাগড়াছড়ির জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনা স্থানীয়ভাবে উদ্বেগের সৃষ্টি করলেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক