গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৩ হাজার ২০০ জনে পৌঁছেছে এবং এখন পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৪০৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৭ জুলাই) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডিআর কঙ্গোতে চলমান ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে নতুন করে প্রায় এক হাজার মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ১৫ মে এই প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এবার সংক্রমণের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও (Bundibugyo) ধরনের ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, আক্রান্তদের প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি প্রদেশে শনাক্ত হয়েছেন। দক্ষিণ সুদান ও উগান্ডার সীমান্তঘেঁষা এই অঞ্চল থেকে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বর্তমানে পাঁচটি প্রদেশে বিস্তার লাভ করেছে। এর মধ্যে দুটি নতুন প্রদেশও রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিমানসেবা (ইউএনএইচএএস) জানিয়েছে, দুর্গম এলাকায় চিকিৎসক, ওষুধ ও জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে পরীক্ষাগারে নমুনা পাঠিয়ে দ্রুত সংক্রমণ শনাক্তের কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, উন্নত পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থার কারণে আগের তুলনায় বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যকর্মীদের বকেয়া বেতনের দাবিতে চলমান ধর্মঘটের কারণে কিছু হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই প্রাদুর্ভাব আরও কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।
ইবোলা ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরলের সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এটি মারাত্মক রক্তক্ষরণজনিত জ্বর সৃষ্টি করে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকাজুড়ে ইবোলা ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে, বুন্ডিবুগিও ধরনের বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা ও চিকিৎসা উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কসমিক ডেস্ক