আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, বর্তমান সরকার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় স্বচ্ছতার পথ অনুসরণ করছে এবং এই পথই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর মূল চাবিকাঠি।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আইন মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আইনজীবীদের স্বার্থ দেখার সঙ্গে সঙ্গে বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি বিচার বিভাগের ভালো-মন্দ নিরীক্ষণ করাও তাদের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
আইনমন্ত্রী তার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন যে বিচার বিভাগকে তার নিজস্ব গতিতে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। মন্ত্রী এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন এবং প্রত্যাশা করেন যে বিচারকরাও স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।
আসাদুজ্জামান আরও বলেন, যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে আমরা কাজ করি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রদর্শন না করলে সেগুলো এক সময় ধ্বংসের পথে চলে যায়। তাই বিচার ও আইন সংক্রান্ত সংস্থাগুলোর স্থায়িত্ব রক্ষার জন্য সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ আলী হোসাইন। বক্তব্য দেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব শেখ আশফাকুর রহমান।
আইনমন্ত্রী ইফতার অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিচার বিভাগের কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে ন্যায়বিচারের প্রসার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণ যাতে তাদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে পান এবং আইনজীবীর স্বার্থও অক্ষুণ্ণ থাকে, সেটি নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার। তিনি উল্লেখ করেন, স্বচ্ছতা ও নৈতিক দায়িত্বের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
মঙ্গলবারের ইফতার মাহফিলটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বিচার ও আইন প্রশাসনের উন্নয়ন, নৈতিকতা ও স্বচ্ছতার গুরুত্ব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাহফিলে উপস্থিত বিশিষ্ট বিচারক, আইনজীবী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা ন্যায়বিচারের স্বার্থে সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং নিজ নিজ দায়িত্বে সততা ও নিষ্ঠা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, বর্তমান সরকার এবং আইনমন্ত্রী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও স্বচ্ছতার ক্ষেত্রে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিচারপ্রার্থীর অধিকার রক্ষা ও সংস্থাগুলোর দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের আইনি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক