পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু জেলায় পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে অন্তত ২৪ জন সশস্ত্র বিদ্রোহী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)। শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আইএসপিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বান্নু ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা এবং যানবাহন ব্যবহার করে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাপক যৌথ অভিযান শুরু করে।
পাকিস্তানের দাবি, এসব হামলার সঙ্গে ভারতের সমর্থনপুষ্ট বলে অভিযুক্ত ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা জড়িত ছিল। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি এবং এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তীব্র গোলাগুলির পর ওই গোষ্ঠীর অন্তত ২৪ সদস্য নিহত হয়। অভিযানে নিহতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে আইএসপিআর।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, নিহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা এবং বেসামরিক মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল। এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, বান্নু ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় এখনও তল্লাশি ও নিরাপত্তা অভিযান চলমান রয়েছে। সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী।
পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি দেশজুড়ে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় ফেডারেল অ্যাপেক্স কমিটির অনুমোদিত আজম-ই-ইস্তেহকাম কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস এবং সহিংসতা দমনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন হামলা বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গোয়েন্দা অভিযান এবং যৌথ সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে।
তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের দাবি ও পাল্টা দাবির কারণে ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ যাচাই অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে হতাহতের সংখ্যা ও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পক্ষ থেকেও স্বাধীন যাচাইয়ের গুরুত্বের কথা বলা হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কসমিক ডেস্ক