রাজধানীর পল্লবীর আট বছরের শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় নতুন অগ্রগতি এসেছে আদালতে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত আসামিদের বাইরে অন্য কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (২ জুন) ঢাকার মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আদালতে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান জানান, তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে শুধু আসামিরাই জড়িত ছিলেন।
এদিন চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত মোট ১৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। পরবর্তী ধাপে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।
এই মামলায় প্রথমে ভিকটিমের বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লার জবানবন্দির মাধ্যমে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে ভিকটিমের মা, পরিবারের সদস্যরা, প্রতিবেশী এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আদালতে সাক্ষ্য দেন। তারা ঘটনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, যা মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সাক্ষ্যগ্রহণে আরও অংশ নেন সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী কর্মকর্তা, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক এবং ম্যাজিস্ট্রেট, যিনি আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন। আদালতে এসব সাক্ষ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্ট হয়।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানির সময় আসামিদের আচরণ ও বক্তব্য আদালতে আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে সোহেল রানার কিছু বক্তব্য ও অভিযোগ আদালত কক্ষে উপস্থিতদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
এর আগে চলতি বছরের ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে একই ফ্ল্যাট থেকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ঘটনার সঙ্গে দুজনই সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।
চার্জশিট অনুযায়ী, ঘটনার দিন শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে হত্যার ঘটনা ঘটে। এরপর লাশ গুমের চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তে আরও বলা হয়েছে, এই কাজে অভিযুক্তের স্ত্রীও সহযোগিতা করেছিলেন।
মামলাটি বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন আদালত আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি গ্রহণ করবে এবং পরবর্তী ধাপে রায় ঘোষণার দিকে অগ্রসর হবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের শিশু নির্যাতন ও হত্যার মামলা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাও সমানভাবে জরুরি।
সব মিলিয়ে, রামিসা আক্তার হত্যা মামলায় তদন্তের এই পর্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট সবাইয়ের।
কসমিক ডেস্ক