যশোরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা রাশেদ খানের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে যশোর শহরের খোলাডাঙ্গা কদমতলা মোড় এলাকায়। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে রাশেদ খানের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই বিরোধের জেরেই এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
রাশেদ খান অভিযোগে উল্লেখ করেন, সোমবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে প্রতিবেশী মনা, ইমন, জুলি খাতুনসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র, ধারালো দা ও কুড়াল নিয়ে তার বাড়ির পাশে থাকা দোকানের সামনে আসে। সেখানে এসে তারা গালাগাল শুরু করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি আরও জানান, গালাগালে বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একই সঙ্গে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ির প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, হামলার এক পর্যায়ে দুইজন ব্যক্তি ধারালো কুড়াল নিয়ে তার দিকে তেড়ে আসে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
রাশেদ খান আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারকে নিয়মিত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। ফলে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে এবং আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এ ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালে ঢাকায় একটি কর্মসূচি শেষে যশোরে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজ নিতে তাদের বাড়িতে যান জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী এ সময় স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, কোনো ধরনের সহিংসতা বা ভাঙচুর বরদাশত করা হবে না এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাস্থলে জেলা পরিষদ যশোরের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
রাশেদ খান প্রতিমন্ত্রীর সহমর্মিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়ানোয় আমরা মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি।”
বর্তমানে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
কসমিক ডেস্ক