ধর্মেন্দ্র প্রধান : ব্যারিকেডের এপার থেকে ওপারে The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ধর্মেন্দ্র প্রধান : ব্যারিকেডের এপার থেকে ওপারে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 23, 2026 ইং
ধর্মেন্দ্র প্রধান : ব্যারিকেডের এপার থেকে ওপারে ছবির ক্যাপশন:

ভারতের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আজ দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। তবে এই আলোচনার কারণ কোনো সাফল্য নয়, বরং নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া তীব্র বিতর্ক। শিক্ষার্থীদের একাংশ তার পদত্যাগের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে, যা নতুন নয়—বরং এক অর্থে তার অতীতেরই পুনরাবৃত্তি।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের রাজনৈতিক উত্থানের গল্প শুরু হয়েছিল রাজপথ থেকেই। ১৯৯০-এর দশকে ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি ওড়িশায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৯৭ সালে ভুবনেশ্বরে তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের বিরুদ্ধে হাজারো শিক্ষার্থীকে নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন তিনি। সে সময় তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)-এর জাতীয় সম্পাদক ছিলেন।

সেই আন্দোলন শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে তা সহিংস হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, পুলিশের লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হন প্রধান, এমনকি তার শরীরের কয়েকটি হাড় ভেঙে যায়। কিন্তু এই ঘটনাই তাকে জাতীয় রাজনীতিতে পরিচিত করে তোলে এবং ভবিষ্যতের পথ তৈরি করে দেয়।

ছাত্র রাজনীতি থেকেই ধীরে ধীরে তিনি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর সঙ্গে যুক্ত হন এবং দলের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রীসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে তিনি ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

তবে বর্তমানে তিনি যে সংকটের মুখে, তা তার অতীতের সঙ্গে এক ধরনের বৈপরীত্য তৈরি করেছে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলনে নেমেছে, তখন অনেকেই তার অতীতের সেই ছাত্রনেতার ভূমিকাকে স্মরণ করছেন। যে ব্যক্তি একসময় প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন, আজ তিনিই সেই ধরনের অভিযোগের কারণে সমালোচনার মুখে।

পদত্যাগের দাবির বিষয়ে দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর সম্প্রতি তিনি মুখ খুলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকার এই বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং শিক্ষার্থীদের সব প্রশ্নের জবাব দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার মতে, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ দূর করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা সরকারের দায়িত্ব।

এই পুরো পরিস্থিতি যেন একটি প্রতীকী চিত্র তুলে ধরে—ক্ষমতার পালাবদলে অবস্থান বদলালেও ইতিহাস কখনো কখনো একই জায়গায় ফিরে আসে। প্রায় তিন দশক আগে যে ধর্মেন্দ্র প্রধান ব্যারিকেডের একপাশে দাঁড়িয়ে আন্দোলন করছিলেন, আজ তিনি দাঁড়িয়ে আছেন অন্য পাশে—ক্ষমতার কেন্দ্রে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ইসরায়েল ইস্যুতে ওআইসির জরুরি সভা, জেদ্দা যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উ

ইসরায়েল ইস্যুতে ওআইসির জরুরি সভা, জেদ্দা যাচ্ছেন পররাষ্ট্র উ