রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আবারও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৯ জুলাই) সিদ্ধিরগঞ্জ, গুলিস্তান ও বাংলামোটর এলাকায় পৃথক তিনটি ঘটনায় তিন ব্যক্তি অচেতন হয়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে।
হাসপাতাল ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে সিদ্ধিরগঞ্জের সাদ্দাম মার্কেট এলাকায়। রাহাদ (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি একটি ওষুধ কোম্পানিতে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত।
রাহাদের সহকর্মী এনামুল হক জানান, দুপুরের দিকে সাদ্দাম মার্কেট এলাকায় তাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে দ্রুত উদ্ধার করে দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞান পার্টির সদস্যরা সেগুলো নিয়ে গেছে।
একই দিনে গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট এলাকা থেকেও মৈনউদ্দিন (৬০) নামে আরেক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তিনি গুলিস্তান এলাকায় ফুটপাতে কাপড়ের ব্যবসা করেন এবং মাতুয়াইলের নূরবাগ এলাকায় বসবাস করেন।
মৈনউদ্দিনের স্ত্রী মানসুরা বেগম জানান, সকালে বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে বাসের মধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার কাছ থেকেও নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় মালামাল খোয়া গেছে বলে দাবি করেছেন স্বজনরা।
অন্যদিকে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় বিআরটিসির একটি বাস থেকে উত্তম কুমার সরকার (৪৫) নামে আরেক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। বাসের দুই যাত্রী তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বাসযাত্রী ডা. জোবায়ের জানান, বাসে এক হকারের কাছ থেকে চকলেট খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই উত্তম কুমার অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার কাছ থেকেও মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
উত্তম কুমার সরকারের বাড়ি উত্তর শাহজাহানপুর শান্তিনগর এলাকায়। তার বাবার নাম জিতেন্দ্র নাথ সরকার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, অচেতন অবস্থায় তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা বর্তমানে মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রয়োজনীয় তদন্ত করছে।
নগরবাসীকে অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার, পানীয় বা চকলেট গ্রহণ না করার পাশাপাশি গণপরিবহনে চলাচলের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা
কসমিক ডেস্ক