বাংলাদেশের কৃষিখাত দেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই খাতকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সম্প্রতি নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর উদ্যোগে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এ কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চারা রোপণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়, যা আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। তাই কৃষির উন্নয়ন মানেই দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। তিনি ‘ভাতে মাছে বাঙালি’ প্রবাদটির উল্লেখ করে বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ধানের উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি সম্ভব, যা কৃষকদের আয় বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকেও আরও গতিশীল করবে।
বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কৃষির প্রতি আগ্রহ কিছুটা কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুললে শিক্ষিত যুবকদের এই খাতে আকৃষ্ট করা সম্ভব। এ জন্য উন্নত যন্ত্রপাতি, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, এই যন্ত্রের মাধ্যমে অল্প সময়ে নির্ভুলভাবে চারা রোপণ করা যায়, যা ফলন বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সরকারের লক্ষ্য শুধু দেশের খাদ্য চাহিদা পূরণ নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করা। তিনি উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ যেন বিদেশ থেকে চাল আমদানির পরিবর্তে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার।
এ ছাড়া কৃষি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন ডেপুটি স্পিকার। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাশত করা হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। এসব সুবিধা প্রকৃত দরিদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
সার্বিকভাবে, কৃষির আধুনিকীকরণ ও যান্ত্রিকীকরণের এই উদ্যোগ দেশের কৃষি ব্যবস্থাকে আরও উন্নত, উৎপাদনশীল ও টেকসই করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি শুধু কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নেই সহায়ক হবে না, বরং দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক