আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।
সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের দিন কোরবানির পশুর বর্জ্য ৮ ঘণ্টার মধ্যে সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
সোমবার (২৫ মে) জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে ঈদের প্রধান জামাত ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পরে ডিএসসিসি প্রশাসক সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে সকাল ৮টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে প্রধান জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
জাতীয় ঈদগাহে এবার প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। মোট ১২১টি কাতারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অজুখানা ও নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গরমের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে পুরো প্যান্ডেলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত ফ্যান স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, ভ্রাম্যমাণ টয়লেট এবং প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ডিএসসিসি জানিয়েছে, ঈদের দিন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে কলাবাগান এসটিএস থেকে বর্জ্য পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্য স্থানান্তর করা হবে। প্রথম দিনের বর্জ্য রাত ৯টা ৩০ মিনিটের মধ্যেই সম্পূর্ণভাবে অপসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঈদের তিন দিনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় প্রায় ৩৩ হাজার ৯৪২ টন বর্জ্য উৎপন্ন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিশাল পরিমাণ বর্জ্য অপসারণে প্রায় ১৩ হাজার ৪৫৩ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাঠে কাজ করবেন। পাশাপাশি ট্রাক, কম্প্যাক্টর ও পে-লোডারসহ ২ হাজার ১১৭টি যান ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হবে।
জীবাণুনাশক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার, ২১০ গ্যালন স্যাভলন এবং ১ লাখ ৪০ হাজার বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ বিতরণ করা হচ্ছে। এতে নগরীর স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এছাড়া কোরবানির হাট ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম তদারকির জন্য একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। সেখানে সার্বক্ষণিক মনিটরিং চলবে। প্রতিটি হাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, তদারকি টিম এবং মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।
ডিএসসিসি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, কোরবানি নির্ধারিত স্থানে সম্পন্ন করে বর্জ্য ব্যাগে ভরে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখতে। কোনো অবস্থাতেই ড্রেন বা নর্দমায় বর্জ্য না ফেলতে অনুরোধ করা হয়েছে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও সুন্দর ঈদ উদযাপন নিশ্চিত করতে ডিএসসিসি সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানানো হয়।
কসমিক ডেস্ক