দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত অসুস্থতা উদ্বেগজনকভাবে অব্যাহত রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ১ হাজার ৬৯ শিশু।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৭৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নতুন আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ৯২২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে একদিনেই হাম ও উপসর্গজনিত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৯ জনে।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্যেও রোগীর চাপের চিত্র উঠে এসেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৮৯ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ১১ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামগ্রিক পরিসংখ্যান বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৫৭৮ জন।
এ সময়ের মধ্যে মোট ১ লাখ ১ হাজার ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ৫৩২ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকাদান, আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা সংক্রমণ ও জটিলতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা হামের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক