রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট ছড়ানোর অভিযোগে পাকিস্তানে ১১ জন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নবগঠিত ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পাঞ্জাবের বিভিন্ন শহরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এবং ভারতের এএনআই সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অনলাইন ক্যাম্পেইন চালাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এনসিসিআইএ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের মধ্যে লাহোর, ফয়সালাবাদ, মূলতান ও গুজরানওয়ালা থেকে একাধিক ব্যক্তি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘প্রিভেনশন অব ইলেকট্রনিক ক্রাইমস অ্যাক্ট (প্যাকা) ২০১৬’ অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।
সংস্থাটির পাঞ্জাব পরিচালক মুহাম্মদ আলী ওয়াসিম বলেন, রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রমে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোনো বৃহৎ অনলাইন নেটওয়ার্ক বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মানবাধিকার ইস্যু নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অধিকারকর্মীরা বলছেন, রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে ভিন্নমত দমন এবং অনলাইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে।
চলতি মে মাসে পাঞ্জাবে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের সাইবার অভিযান। এর আগে একই ধরনের অভিযোগে আরও ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো পাকিস্তানের সাইবার নিরাপত্তা আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে, বিশেষ করে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা নিয়ে।
কসমিক ডেস্ক