মেয়েকে হারিয়ে জামাইয়ের কবরের পাশে শ্বশুরের কান্না The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

মেয়েকে হারিয়ে জামাইয়ের কবরের পাশে শ্বশুরের কান্না

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
মেয়েকে হারিয়ে জামাইয়ের কবরের পাশে শ্বশুরের কান্না ছবির ক্যাপশন:

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়ার দুই দিন পার হলেও শোকের আবহ এখনো কাটেনি। স্বজনদের কান্না আর স্মৃতিচারণে ভারী হয়ে আছে পুরো এলাকা।

নিহত আব্দুর রাজ্জাকের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যরা এখনো গভীর শোকে ডুবে আছেন। বাড়ির আঙিনায় যেন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা। মাঝেমধ্যে স্বজনরা কবরস্থানে গিয়ে প্রিয়জনদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া করছেন। কেউ আবার কবরের মাটি ছুঁয়ে অশ্রু ঝরাচ্ছেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে এই শোকাহত পরিবেশের মধ্যে একটি হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ মিতুর বাবা আব্দুস সালাম খুলনার কয়রা উপজেলা থেকে মোংলা কবরস্থানে আসেন।

তিনি নিজের মেয়েকে দাফন করার পর এবার জামাইয়ের কবর দেখতে সেখানে যান। নতুন সংসার নিয়ে মেয়ের অনেক স্বপ্ন ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনার সেই মর্মান্তিক ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই ভেঙে যায় সব স্বপ্ন।

কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার তো সব শেষ হয়ে গেল। আমার দুই মেয়েই চলে গেছে। বাবা অনেক আগেই মারা গেছে, এখন মা-ও নেই। আমি একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেলাম।”

তার এই হৃদয়বিদারক কথা শুনে নিহত আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের সদস্যরাও আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। পুরো পরিবেশ আরও শোকাবহ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা সফিকুল ইসলাম বলেন, খুলনা–মোংলা মহাসড়কে প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুত গতি নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

নিহতদের প্রতিবেশী জব্বার শেখ বলেন, তিন দিন ধরে এলাকায় শুধুই কান্নার পরিবেশ বিরাজ করছে। এমন মর্মান্তিক ঘটনা তারা আগে কখনো দেখেননি।

তার মতে, একসঙ্গে এতজন মানুষকে হারিয়ে পুরো এলাকা গভীর শোকে ডুবে গেছে।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, বাসের অতিরিক্ত গতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফবাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

এই দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ মোট ১৪ জন নিহত হন।

পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে নিহতদের দাফন সম্পন্ন করা হয়। বর, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ পরিবারের নয় সদস্যকে মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

নববধূ, তার বোন এবং দাদিকে দাফন করা হয়েছে খুলনার কয়রা উপজেলার নকশা এলাকায়। এছাড়া তার নানিকে দাফন করা হয়েছে চালনায়।

মাইক্রোবাস চালককে দাফন করা হয়েছে তার নিজ গ্রাম রামপালে।

একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তের মধ্যে একাধিক পরিবারকে শোকের সাগরে ডুবিয়ে দিয়েছে। দুর্ঘটনার তিন দিন পরও স্বজনরা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে খুঁজে ফিরছেন তাদের প্রিয় মানুষের স্মৃতি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
জাতীয় দিবস উপলক্ষে আরব আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে রাজকীয়

জাতীয় দিবস উপলক্ষে আরব আমিরাতে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে রাজকীয়