এনইআইআর ইস্যুতে মাত্র দেড় হাজার মোবাইল ব্যবসায়ী জড়িত বে-আইনি কর্মকাণ্ডে: এমআইওবি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

এনইআইআর ইস্যুতে মাত্র দেড় হাজার মোবাইল ব্যবসায়ী জড়িত বে-আইনি কর্মকাণ্ডে: এমআইওবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 7, 2026 ইং
এনইআইআর ইস্যুতে মাত্র দেড় হাজার মোবাইল ব্যবসায়ী জড়িত বে-আইনি কর্মকাণ্ডে: এমআইওবি ছবির ক্যাপশন:
ad728

দেশের প্রায় ১২ হাজার মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীর মধ্যে মাত্র এক হাজার থেকে দেড় হাজার ব্যবসায়ী ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ইস্যুতে বে-আইনি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআইওবি)।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘এনইআইআর’র হাত ধরে শুরু হোক নিরাপদ বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জিয়াউদ্দিন চৌধুরী, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন টিপু, কোষাধ্যক্ষ ইমরান উদ্দীন এবং বাংলাদেশ মোবাইল ফোন ডিস্ট্রিবিউটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হারুন উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনইআইআর ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব, ভোক্তা নিরাপত্তা এবং দেশের মোবাইল ফোন ইকোসিস্টেমে এই ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এমআইওবি জানায়, সরকার ১ জানুয়ারি থেকে এনইআইআর বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্মার্টফোন আমদানি শুল্ক হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা মোবাইল শিল্পের জন্য সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ।

এমআইওবি সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, এনইআইআর বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোবাইল ফোন শিল্পে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে। অবৈধ ও নকল মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং বৈধ ব্যবসা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি হবে। তিনি এই উদ্যোগের জন্য সরকারকে সাধুবাদ জানান এবং এনইআইআর বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে বিটিআরসি কার্যালয়ে সংঘটিত ভাঙচুর ও সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান।

সংগঠনটির মতে, এনইআইআর কার্যকর হলে অবৈধ, নকল ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে। একই সঙ্গে অবৈধ আইএমইআই ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় ফোন ক্লোনিং, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। এতে রাষ্ট্রীয় রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।

এমআইওবি জানায়, বর্তমানে দেশে ১৮টি স্মার্টফোন উৎপাদন প্রতিষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে তিন হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। এই খাতে সরাসরি প্রায় ৫০ হাজার শ্রমিক এবং পরোক্ষভাবে আরও প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী শ্রমিক যুক্ত।

তবে সংগঠনটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এনইআইআর বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে একটি সীমিত গোষ্ঠী বহিরাগতদের এনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, বিটিআরসি কার্যালয়ে ভাঙচুর, শিশুদের ব্যবহার করে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা এবং বিভিন্ন স্থানে বৈধ মোবাইল ফোনের দোকান জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়েছে। এসব ঘটনায় বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির মুখে পড়ছে।

এমআইওবির মতে, এ ধরনের আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিশেষ করে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগনির্ভর স্মার্টফোন শিল্পে এই অস্থিরতা ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ প্রবাহের জন্য নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। সংগঠনটি নীতিগত মতভেদ শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত উপায়ে সমাধানের পাশাপাশি বৈধ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের টানা তিন দিনের সাধার

নির্বাচন উপলক্ষে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকদের টানা তিন দিনের সাধার