ভূমিদস্যুদের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি রাবার বাগান The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ভূমিদস্যুদের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি রাবার বাগান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 4, 2026 ইং
ভূমিদস্যুদের দাপটে ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি রাবার বাগান ছবির ক্যাপশন:

কক্সবাজারের রামু উপজেলার সরকারি রাবার বাগানে জবরদখলকৃত জমি উদ্ধারে শুরু হওয়া উচ্ছেদ অভিযান তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। এর সুযোগে নতুন করে দখলদার চক্রের তৎপরতা বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি বাগানের প্রায় দুই একর এলাকায় তিন থেকে চার শতাধিক রাবার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে, যা সরকারি সম্পদের জন্য বড় ক্ষতি।

এই রাবার বাগানটি বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফআইডিসি)-এর অধীন পরিচালিত। সংস্থার অধীনে থাকা রামু রাবার বাগানের জবরদখলকৃত ৯৮ একর জমি উদ্ধারে আগে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছিল। গত বছর সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ১৬ একর সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয় এবং অবৈধ স্থাপনা ও বসতঘর অপসারণ করা হয়।

ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই বাগানটি ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। কক্সবাজারের রামু উপজেলা এলাকায় ২ হাজার ৬৮২ একর জমিজুড়ে গড়ে ওঠা এটি ছিল পূর্ব পাকিস্তান আমলের দেশের প্রথম সরকারি রাবার বাগান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় একটি দখলবাজ চক্র প্রায় ৫০০ একর জমি দখলে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাগানের শত শত রাবার গাছ কেটে ফেলার ঘটনাও সামনে আসে।

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বিএফআইডিসির শীর্ষ কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জমি বেহাত হওয়ার সত্যতা পান। এরপর ৯৮ একর জমিতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানের সময় সংস্থার চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই অজ্ঞাত কারণে অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্ছেদ বন্ধ থাকার সুযোগে দখলদাররা আবার সক্রিয় হয়েছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহে ১৬ একর এলাকার প্রায় দুই একরে থাকা তিন-চারশ রাবার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

রাবার বাগানের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে দখলবাজদের যোগসাজশের অভিযোগও উঠেছে। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মাঠকর্মী নুরুল হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, তাকে ‘বলির পাঁঠা’ বানানো হয়েছে এবং প্রকৃত দখলদাররা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিএফআইডিসির চট্টগ্রাম জোনের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এ.এ.এম শাহজাহান সরকারের সঙ্গে আলোচিত ৯৮ একর জমির দখলদার মোহাম্মদ আলমের একাধিক গোপন বৈঠক হয়েছে। যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করে জিএম বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা সম্পন্ন করা হবে। তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি বা নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কিছু জানাননি।

অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলমও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় বাইরে যাননি এবং সরকারি রাবার গাছ কাটার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

এদিকে রামু উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাস্টার মো. আলম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বশীলদের অবহেলা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগে ভূমিদস্যুরা সরকারি জমি দখলে রেখেছে। রাজনৈতিক প্রভাবও এখানে ভূমিকা রাখছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি রাবার বাগান এখন দখল, গাছ কাটা ও প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগে গভীর সংকটের মুখে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কার্যকর ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ না নিলে সরকারি সম্পদ রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাদির শেখানো মন্ত্রে উজ্জীবিত হবে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

হাদির শেখানো মন্ত্রে উজ্জীবিত হবে বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা