সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে ‘জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতা ২০২৬’। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইসলামিক ফাউন্ডেশন এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সমন্বয় বিভাগের পরিচালক মো. মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে যোগ্য ও আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন করার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানায়, প্রতিযোগিতাটি বিভাগীয় পর্যায় থেকে শুরু হয়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বের মাধ্যমে শেষ হবে।
গ্রুপ ও বিষয়
গ্রুপ ‘ক’ (অনূর্ধ্ব ৩০ বছর):
ফাজিল, জালালাইন, দাওরায়ে হাদিস, কামিল এবং আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। এ গ্রুপে তাফসিরের বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে—সুরা ফাতিহা, সুরা বাকারা ও সুরা আলাক।
গ্রুপ ‘খ’ (অনূর্ধ্ব ৪০ বছর):
কামিল, দাওরায়ে হাদিস এবং আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাদরাসা শিক্ষক, খতিব, ইমাম, গবেষক, দাঈ, ইসলামী লেখক, ওয়ায়েজ ও সংস্কৃতিকর্মীরা অংশ নিতে পারবেন। এ গ্রুপের তাফসিরের বিষয়—সুরা আন-নূর, সুরা ইয়াছীন, সুরা হুজরাত, সুরা আর-রাহমান ও সুরা ওয়াকিয়াহ।
আবেদনের যোগ্যতা
আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে এবং আরবি ভাষায় কথা বলায় পারদর্শী হতে হবে। পাশাপাশি পবিত্র কুরআনের শাব্দিক অর্থসহ তরজমা করার সক্ষমতা থাকতে হবে। এছাড়া উলুমুল কুরআন, উসুলুত তাফসির, হাদিস, ফিকহ, ইলমুন নাহু, ইলমুস সরফ ও বালাগাতসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে।
পুরস্কার
জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন একজন পাবেন ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র। প্রথম রানার্সআপ দুইজন পাবেন দেড় লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র এবং দ্বিতীয় রানার্সআপ দুইজন পাবেন ১ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদপত্র।
বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকারী পাবেন ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ১৫ হাজার টাকা এবং তৃতীয় স্থান অধিকারী ১০ হাজার টাকা। প্রত্যেক বিজয়ীকে ক্রেস্ট ও সনদপত্রও দেওয়া হবে।
আবেদন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া
আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনকারীদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আটটি বিভাগীয় কার্যালয়ের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ) যেকোনো একটি কেন্দ্র নির্বাচন করে আবেদন করতে হবে।
বিভাগীয় পর্যায়ের পরীক্ষার সময়সূচি পরে জানানো হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের রাজধানী ঢাকায় এক সপ্তাহের বিশেষ গ্রুমিং বা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্বাচনী পরীক্ষায় তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির জন্য সাফওয়াতুত তাফাসীর, কালিমাতুল কুরআন, তাফসীরে জালালাইন, তাফসীরে মাজহারী, তাফসীরে ইবনে কাছীর এবং তাফসীরে মারেফুল কুরআন-কে সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক