আফগানিস্তানে তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের সামরিক অভিযান নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, পাকিস্তান ‘দারুণভাবে কাজ করছে’ এবং তাদের পদক্ষেপকে তিনি প্রশংসার চোখে দেখছেন।
পাকিস্তান সম্প্রতি আফগান তালেবানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন গজব আল হক’ নামে সামরিক অভিযান পরিচালনা শুরু করেছে। শুক্রবার পাকিস্তানি বাহিনী কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিয়া অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে বিমান হামলা চালায় বলে জানানো হয়।
সামরিক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তবর্তী ৫৩টি স্থানে বিদ্রোহীদের প্রতিহত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষতি এড়াতে সংযম প্রদর্শনের কথাও উল্লেখ করা হয়।
সরকারি হিসাবে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত ২৯৭ জন নিহত এবং ৪৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। অভিযানে ৮৯টি তালেবান পোস্ট ধ্বংস এবং ১৮টি দখল করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৩৫টি ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ধ্বংস করা হয়েছে এবং আফগানিস্তানের ২৯টি স্থানে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
টেক্সাসে সফরের আগে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তার সম্পর্ক খুবই ভালো। তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর প্রশংসা করে তাদের ‘মহান নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে পাকিস্তানের সামরিক পদক্ষেপের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এদিকে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তার মুখপাত্রের মাধ্যমে জানানো হয়, বেসামরিক জনগণের ওপর সহিংসতার প্রভাব নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন।
একইভাবে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি-এর সভাপতি মিরজানা স্পোলিয়ারিচ উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে নতুন করে সহিংসতা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল সংযম, সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিচ্ছে। সামরিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মানবিক দিক বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বানও জানানো হচ্ছে।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাওয়ায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংঘর্ষ অব্যাহত থাকলে তার প্রভাব পার্শ্ববর্তী অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের অভিযানে ট্রাম্পের প্রশংসা এবং একই সঙ্গে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলোর সংযমের আহ্বান—এই দুই ভিন্ন প্রতিক্রিয়া বর্তমান সংকটকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
কসমিক ডেস্ক