কুমিল্লা-৪ সংসদীয় আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঋণখেলাপির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার প্রার্থিতা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের বেজমেন্ট-২ এর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত শুনানি শেষে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মনোনয়ন যাচাই-বাছাই ও শুনানিকালে প্রার্থীর ঋণসংক্রান্ত নথি পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, ঋণখেলাপির অভিযোগের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হন মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। নির্বাচন আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপি ব্যক্তি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য নন—এই বিধান অনুসরণ করেই কমিশন তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, কুমিল্লা-৪ আসনটি চলতি নির্বাচনে বেশ আলোচিত। এই আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোটের পক্ষ থেকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ। তার প্রার্থিতা ঘিরে শুরু থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
এর আগে, মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। আপিলে তিনি দাবি করেন, নির্বাচন আইন লঙ্ঘন করে একজন ঋণখেলাপি প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী মনোনয়ন পেয়েছেন, যা আইনসম্মত নয়।
অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বৈধতা নিয়ে পাল্টা আপিল করেন। তিনি অভিযোগ করেন, হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়নপত্রেও আইনগত ত্রুটি রয়েছে। তবে শুনানি শেষে নির্বাচন কমিশন উভয় পক্ষের বক্তব্য ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত দেয়।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ফলে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বিএনপির প্রার্থী বাতিল হওয়ায় আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও সীমিত হলো, যা অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচন সুষ্ঠু ও আইনসম্মত করতে কমিশন সব ধরনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করছে। ভবিষ্যতেও নির্বাচন আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে থাকবে ইসি।
কসমিক ডেস্ক