তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপাতি বিজয়ের নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে চেন্নাই পুলিশ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং সাবেক ক্ষমতাসীন দল ডিএমকের দুই নেতাকে তলব করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গত ১০ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে থালাপাতি বিজয়ের শপথ নেওয়ার পর জুন মাসে তার সরকারকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার নাম ছিল ‘প্রজেক্ট মেঘালয়া’।
তদন্তকারীরা জানান, সমীক্ষা পরামর্শক ও ইউটিউবার তিরুনাভুক্কারাসুকে সামনে রেখে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিজয়ের দল টিভিকে (TVK)-এর অন্তত ১৫ জন বিধায়ককে অর্থের প্রলোভন দিয়ে দলত্যাগে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা ছিল।
পুলিশের তথ্যমতে, সরাসরি দলত্যাগের পরিবর্তে প্রথমে বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করা হয়। এরপর একযোগে ১৫ জন বিধায়কের পদত্যাগের মাধ্যমে সরকারকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ।
তদন্তে উঠে এসেছে, গত জুনের শেষ সপ্তাহে উথানগারাই কেন্দ্রের টিভিকে বিধায়ক এন. ইলাইয়ারাজার সঙ্গে যোগাযোগ করেন অভিযুক্ত তিরুনাভুক্কারাসু। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় হুইপ অমান্য করে ভোট দেওয়ার বিনিময়ে তাকে ৩৫ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে তাকে এবং তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এরপর গত ২৯ জুন ওই বিধায়ক চেন্নাই পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুরো ঘটনাটি তদন্তের আওতায় আসে। অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিরুনাভুক্কারাসুসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে ফরেনসিক বিশ্লেষণে মূল অভিযুক্তের সঙ্গে এক সিনিয়র সাংবাদিকের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ কারণে তার মোবাইল ফোন জব্দ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় চেন্নাই প্রেসক্লাব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে পুলিশ বলছে, তদন্তের স্বার্থেই আইন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
তদন্তে সাবেক ক্ষমতাসীন দল ডিএমকের সাবেক মন্ত্রী সেন্থিল বালাজি এবং তার ভাই অশোক বালাজির সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তদন্তকারীরা। এ কারণে তাদেরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। তবে ডিএমকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। সরকার উৎখাতের অভিযোগ, বিপুল অর্থের প্রলোভন এবং সাংবাদিককে জিজ্ঞাসাবাদের মতো বিষয়গুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তদন্তের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে এবং তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
কসমিক ডেস্ক