ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) অভিযোগ করেছে, আন্দোলনকারীদের জন্য খাবার পৌঁছে দিতে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। তবে দিল্লি পুলিশ এ অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, যন্তর-মন্তরের আশপাশে এবং প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে একাধিক তল্লাশিচৌকি বসিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এসব চেকপোস্টে আন্দোলনে যোগ দিতে আসা শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়া হচ্ছে এবং বিক্ষোভকারীদের কাছে খাবার পৌঁছানোতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রাঙ্কা আরও বলেন, আন্দোলনকারীদের মনোবল ভাঙার জন্য এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কোনো বাধাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে পারবে না এবং তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে, যন্তর-মন্তর এলাকায় সুইগি, জোম্যাটোসহ বিভিন্ন অনলাইন খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে দিল্লি পুলিশ জানায়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নয়াদিল্লি এলাকায় কোনো ফুড ডেলিভারি অ্যাপ বা খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি।
পুলিশ আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব তথ্য গুজব এবং বিভ্রান্তিকর। জনসাধারণকে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন তথ্য বিশ্বাস না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, আন্দোলনস্থলে পড়ে থাকা খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করে আন্দোলনকারীদের খাবার সরবরাহকারী কিছু রেস্তোরাঁ ও ক্যাফের তথ্য সংগ্রহ করেছে পুলিশ। কিছু ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তাদের কাছে অনলাইন অর্ডারের তথ্য এবং বিনা মূল্যে সরবরাহ করা খাবারের উৎস সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনিয়মের কথা স্বীকার করেনি।
এর আগে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একটি পরামর্শ জারি করেছিল। সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কিছু এলাকায় অ্যাপভিত্তিক সেবা ও পণ্য পরিবহনে সীমিত নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ থাকায় অনেকেই ভুলভাবে ধারণা করেন যে খাবার সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট করে জানায়, এই ব্যাখ্যা সঠিক নয় এবং ফুড ডেলিভারি সেবার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়নি।
বর্তমানে যন্তর-মন্তরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা তাদের বিভিন্ন দাবিতে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে খাবার সরবরাহ নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও পুলিশের ব্যাখ্যা ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে
কসমিক ডেস্ক