টানা জোয়ার, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ এবং অমাবস্যার প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, সুরমা-মেঘনা, বলেশ্বর, শ্রীমন্ত ও কঁচাসহ অন্তত ৯টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠিসহ উপকূলীয় জেলার নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে এবং অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দিনের ব্যবধানে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি আরও বেড়েছে। একদিনের ব্যবধানে কোনো কোনো নদীর পানি প্রায় এক মিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে নদীর পানি তীর উপচে গ্রামাঞ্চল ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে পড়ছে।
বরিশাল নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড, এন হোসেন অ্যাভিনিউ, আগরপুর রোড, পুলিশ লাইন্স রোড, পলাশপুর, ধান গবেষণা রোড, কালিজিরা এলাকার জাগুয়াসহ বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার চরবাড়িয়া, শায়েস্তাবাদ, চন্দ্রমোহন ও চরকাউয়া ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকায় ঘরবাড়িতেও পানি প্রবেশ করেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন।
পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম জানান, দক্ষিণাঞ্চলের ১২টি নদীর ১৬টি পর্যবেক্ষণ পয়েন্ট নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার থেকে জোয়ারের সময় একের পর এক নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।
এছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা, ভোলার তেঁতুলিয়া, দৌলতখান ও তজুমদ্দিনের সুরমা-মেঘনা, পিরোজপুরের বলেশ্বর, বরগুনার বিষখালী, পটুয়াখালীর পায়রা-শ্রীমন্ত এবং কঁচা নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে বাকেরগঞ্জের তেঁতুলিয়া, উজিরপুরের সন্ধ্যা এবং কাঠিপাড়ার লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলে বড় ধরনের বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তবে অমাবস্যার প্রভাব আরও দুই দিন থাকতে পারে। এ সময় জোয়ারের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং নদীর পানি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার বলেন, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ বিরাজ করছে। এর প্রভাবে মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হচ্ছে। যদি এই লঘুচাপ ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তাহলে নদ-নদীর পানি আরও কয়েক ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সর্বশেষ আবহাওয়া ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক