চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় এক গৃহবধূ স্বামীর মুখের দুর্গন্ধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক অশান্তি নিয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ঘটেছে। অভিযোগকারিণী পারভীন আক্তার (৫০) তার স্বামী হেলাল আলীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
পারভীন আক্তার জানান, তাদের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। স্বামীর মুখের তীব্র দুর্গন্ধের কারণে একই ঘরে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বহুবার স্বামীর কাছে মুখ পরিষ্কার রাখার জন্য অনুরোধ করলেও কোনও পরিবর্তন হয়নি। বরং অভিযোগে বলা হয়েছে, মুখের দুর্গন্ধ নিয়ে আলাপ-আলোচনার সময় প্রায়ই স্বামী তাকে গালাগাল করেন এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন।
শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর দুই পক্ষকে থানায় ডেকে আলোচনা করা হয়েছে। দুই পক্ষই বয়স্ক হওয়ায় এবং বিষয়টি পারিবারিক কলহে পরিণত হওয়ায় পুলিশি হস্তক্ষেপে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে ভবিষ্যতে সহনশীল আচরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”
চিকিৎসাবিজ্ঞানে মুখের দুর্গন্ধকে ‘হ্যালিটোসিস’ বলা হয়। এটি অনেকের ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবন ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলে। হ্যালিটোসিসের প্রধান কারণ হতে পারে মাড়ি সংক্রান্ত সমস্যা, দাঁতের ক্ষয়, হজমজনিত অসুবিধা বা মৌখিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত দাঁত পরিষ্কার করা, মৌখিক স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে ডেন্টাল বা মেডিকেল পরামর্শ নেওয়া সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে সাহায্য করে।
স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মুখের দুর্গন্ধকে ছোটখাটো বিষয় মনে করা ঠিক নয়। অনেক সময় এটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার ইঙ্গিতও দিতে পারে। তাই দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করা জরুরি। তারা আরও বলেন, মুখের দুর্গন্ধের সমস্যা সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা মানসিক চাপ ও সম্পর্কের উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
পারিবারিক কলহ এবং মানসিক চাপ মোকাবেলায় সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরামর্শ গ্রহণ করাও জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ধৈর্য, সমঝোতা এবং স্বাস্থ্যগত সমাধানের মাধ্যমে পরিবারের শান্তি বজায় রাখা সম্ভব।
চাঁদপুরের এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, seemingly ছোটখাটো স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা কখনও কখনও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সমস্যা উদ্ভবের প্রাথমিক পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরামর্শ গ্রহণ করা প্রয়োজন।