সুন্দরবনের অন্যতম সক্রিয় ও বড় বনদস্যু দল ‘ছোট জাহাঙ্গীর’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সদস্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের সদর দপ্তর মোংলায় আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণের কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবাউল ইসলামের হাতে দস্যুরা তাদের অস্ত্র ও গুলি জমা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ক্যাপ্টেন মেজবাউল ইসলাম জানান, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। সরকারের নির্দেশনায় ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ পরিচালনার মাধ্যমে বনদস্যু দমনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব অভিযানে এর আগে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪৫ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়েছে। পাশাপাশি দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার পর তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের তথ্যমতে, ধারাবাহিক অভিযানের ফলে সুন্দরবনের সক্রিয় দস্যু বাহিনীগুলো এখন অনেকটাই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর শেখসহ ২৭ জন সদস্য স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লক্ষ্যে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
আত্মসমর্পণের সময় দস্যুরা ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩৪০ রাউন্ড গুলি কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।
এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য এবং বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্যও অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছিলেন বলে জানানো হয়।
কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, যারা আত্মসমর্পণ করবেন তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। তবে যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবেন, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির আওতায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের এবং জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য মোংলা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মোংলা-রামপাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হবে।
কসমিক ডেস্ক