বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে কর্মরত ৮ পাইলটের বিরুদ্ধে ভুয়া উড্ডয়ন ঘণ্টা, জাল লগবুক এবং তথ্য গোপনের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংস্থার অভ্যন্তরে উদ্বেগ তৈরি করেছে এই ঘটনা। একই সঙ্গে সংস্থার চিফ অব ফ্লাইট সেফটির পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানের বিরুদ্ধে আগে থেকে অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু পাইলট নির্ধারিত উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছাড়াই লাইসেন্স পেয়ে ফ্লাইট পরিচালনা করেছেন। উদাহরণস্বরূপ, ক্যাপ্টেন আব্দুর রহমান আকন্দের বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৫০ ঘণ্টা, কিন্তু তার লগবুকে মাত্র ১৫৪.৩৫ ঘণ্টা উড্ডয়ন ধরা আছে। এছাড়া ক্যাপ্টেন ফারিয়েল বিলকিস আহমেদের লগবুকে একই উড্ডয়ন ঘণ্টা দুটি বার লিপিবদ্ধ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা প্রায় ৩৫০ ঘণ্টার অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করে।
ক্যাপ্টেন আনিসের ক্ষেত্রে ২০০ ঘণ্টার পরিবর্তে ১৬২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট, আর ক্যাপ্টেন বাসিত মাহতাবের ক্ষেত্রে ৩৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটকে জাল নথির মাধ্যমে ১৫৫ ঘণ্টা দেখানো হয়েছে। অন্যান্য অভিযুক্ত পাইলটদের মধ্যে রয়েছেন ক্যাপ্টেন নুরুদ্দিন আহমেদ, ইউসুফ মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
তদন্তে দেখা গেছে, শুধু পাইলটদের ক্ষেত্রেই নয়, লাইসেন্স যাচাই ও তদারকিতেও গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। কিছু ফ্লাইট পরিদর্শক যথাযথ লাইসেন্স, শারীরিক সক্ষমতা ও উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা ছাড়াই দায়িত্ব পালন করেছেন, ফলে পুরো লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা ছাড়া ফ্লাইট পরিচালনা করলে জরুরি পরিস্থিতিতে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
চিফ অব ফ্লাইট সেফটির পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানের বিরুদ্ধেও অতীতে অসদাচরণ ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কেবিন ক্রু ও ফার্স্ট অফিসারদের প্রতি আপত্তিকর আচরণ করেছেন, ককপিটে অশোভন ভাষা ব্যবহার করেছেন এবং ব্রেথালাইজার টেস্ট এড়িয়ে গেছেন। এছাড়া নিষিদ্ধ এপ্রন এলাকায় ধূমপান ও এসওপি লঙ্ঘনেরও অভিযোগ রয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল বিধি অনুযায়ী, ফ্লাইট সেফটি প্রধান পদে নিয়োগের জন্য বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং সেফটি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন, যা ক্যাপ্টেন ইমরান সম্পূর্ণভাবে অর্জন করেননি।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, জাল সনদ দিয়ে যারা পাইলট হিসেবে চাকরি করছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা হিসেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষও দায় এড়াতে পারবে না।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ক্যাপ্টেন আহমেদ ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।
কসমিক ডেস্ক