বাড়ছে গোমতীর পানি, ফসল হারানোর শঙ্কায় চরাঞ্চলের কৃষকরা The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

বাড়ছে গোমতীর পানি, ফসল হারানোর শঙ্কায় চরাঞ্চলের কৃষকরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jul 10, 2026 ইং
বাড়ছে গোমতীর পানি, ফসল হারানোর শঙ্কায় চরাঞ্চলের কৃষকরা ছবির ক্যাপশন:

উজানের পাহাড়ি ঢল এবং কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির প্রভাবে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার গোমতী নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু ফসলি জমিতে পানি প্রবেশ শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ইতোমধ্যে সবজিক্ষেত তলিয়ে গেছে, আর পানি আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ এলাকার আগাম মৌসুমের ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নসহ গোমতী নদীসংলগ্ন বিভিন্ন চরাঞ্চলে নদীর বাড়তি পানির প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিচু জমিতে চাষ করা লাউ, কুমড়া, মরিচ, বেগুন ও অন্যান্য মৌসুমি সবজির খেত ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক কৃষক সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে সময়ের আগেই অপরিপক্ব সবজি তুলে বাজারজাত করার চেষ্টা করছেন। তবে অনেক ক্ষেত্রেই পানি এত দ্রুত বাড়ছে যে ফসল তোলারও সুযোগ পাচ্ছেন না তারা।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে সবজি চাষে তারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সেই বিনিয়োগ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। দীর্ঘ সময় পানি স্থায়ী হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এতে অনেক কৃষক ঋণের বোঝাও বহন করতে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

চরাঞ্চলের কৃষকদের মতে, গোমতীর পানি আরও বাড়লে বিস্তীর্ণ এলাকার সবজিক্ষেত পানির নিচে চলে যাবে। এতে শুধু কৃষকরাই নয়, স্থানীয় বাজারেও সবজির সরবরাহ কমে যেতে পারে। তাই দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি কামনা করছেন তারা।

এদিকে উপজেলা কৃষি বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মতিন জানিয়েছেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। নদীতীরবর্তী এলাকার কৃষকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে খরিপ-১ মৌসুম চলমান থাকায় মাঠে সবজি ফসলের পরিমাণ তুলনামূলক কম। ফলে স্বল্পমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা কম থাকলেও দীর্ঘ সময় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বীজতলা প্রস্তুতসহ পরবর্তী কৃষি কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।

অন্যদিকে কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহরিয়ার জানিয়েছেন, গোমতী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নদীর তীরবর্তী কয়েকটি নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শুধু তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, দীর্ঘমেয়াদি নদী ব্যবস্থাপনা, তীর সংরক্ষণ এবং চরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য কার্যকর সুরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। এতে প্রতিবছর বন্যা ও পানি বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের যে ক্ষতির মুখে পড়তে হয়, তা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
শহীদ ওসমান হাদি হত্যা: দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা: দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে