যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় মানবিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে বলে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মতে, এ ধরনের ঘটনা চলমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করছে এবং বেসামরিক মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।
তবে সোমবার (১৩ জুলাই) হামাস জাতিসংঘের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির দাবি, ঘটনাটি ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়; বরং ত্রাণসামগ্রীর আড়ালে চোরাচালানের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ একটি আইন প্রয়োগকারী অভিযান পরিচালনা করছিল।
জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয়কারী ও মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার উপ-বিশেষ সমন্বয়কারী রামিজ আলাকবারভ এক বিবৃতিতে জানান, গত শনিবার (১১ জুলাই) উত্তর গাজার জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের একটি খাদ্য বিতরণকেন্দ্রে সশস্ত্র ব্যক্তিরা প্রবেশ করে। একই সময়ে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (WFP) একটি গুদামেও হামলা চালানো হয় এবং সেখানে দুইজন ট্রাকচালককে মারধর করা হয়।
রামিজ আলাকবারভ বলেন, এসব ঘটনার কারণে সংশ্লিষ্ট মানবিক সংস্থাগুলোকে সাময়িকভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়েছে। তার ভাষায়, মানবিক কর্মীদের ওপর সহিংসতা, ত্রাণসামগ্রীর অপব্যবহার এবং চোরাচালানের চেষ্টা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা গাজার সংকটাপন্ন মানুষের কাছে জীবনরক্ষাকারী সহায়তা পৌঁছে দেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলছে।
অন্যদিকে, হামাসের দাবি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ত্রাণ চালানের মধ্যে সিগারেট ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ পাচারের তথ্য পাওয়ার পর স্থানীয় পুলিশ সেখানে অভিযান পরিচালনা করে। তাই জাতিসংঘের অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে সংগঠনটি দাবি করেছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন আড়াই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এই দীর্ঘ সংঘাতে গাজা উপত্যকার বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ইসরায়েলি বিমান ও স্থল অভিযানের ফলে প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দার অধিকাংশই বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা এবং প্রায় সব প্রবেশপথ ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন ইস্যুতে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা কয়েক মাস ধরেই অচলাবস্থায় রয়েছে। এর ফলে মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
কসমিক ডেস্ক