মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে এবার বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। বুধবার রাতে এই হামলা চালায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)।
গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একমুখী আক্রমণকারী শাহেদ-১৩৬ ড্রোন ব্যবহার করে এই হামলা পরিচালিত হয়। লক্ষ্য ছিল বাহরাইনের রাজধানী মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌঘাঁটি, যা যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এর আগে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি কাশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায়। এরপরই পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই ড্রোন হামলা চালানো হয়। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হামলার আগে বন্দর আব্বাস এবং জাস্ক কাউন্টির আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আক্রমণ বা হুমকির উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। তারা আরও সতর্ক করে বলেছে, দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ সহ্য করা হবে না।
ঘটনার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ইরান কখনো কোনো হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না।
এই ঘটনার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
কসমিক ডেস্ক